How to earn from online by Google Adsense – Bangla Tutorial

How to earn from online by Google Adsense

গুগলের যতগুলো প্রোডাক্ট বা সেবা রয়েছে  তারমধ্যে গুগল এডসেন্স একটিমাত্র সার্ভিস যা কিনা অন্যকে টাকা দেয়, আর বাকি সবগুলোই সবার কাছ থেকে টাকা নেয়। আর অনলাইনে যতগুলা এর পদ্ধতি রয়েছে তার মধ্যে সবচাইতে ভাল এবং জনপ্রিয় পদ্ধতিগুলোর মধ্যে গুগল এডসেন্স থেকে আয় করা। অনলাইনে যারা প্রফেশনাল কাজ করেন তাদের কাছে Google-Adsense হচ্ছে এক কথায় সোনার হরিণের মতো। গুগল এডসেন্স এমন একটি আর্নিং সিস্টেম, আপনি যদি একবার গুগল এডসেন্স একাউন্ট পেয়ে যান এবং আপনার আর্নিং শুরু হয় ।  এমন সময় আসবে যখন আপনি ঘুমাবেন অথচ আপনার আর্নিং হতেই থাকবে ।  এক কথায় ঘুমিয়ে থাকে আয় করা তবে ।  হ্যাঁ এই ঘুমানোর আগে আপনাকে অনেক কষ্ট, পরিশ্রম করে তারপর ঘুমাতে যেতে হবে ।  এর আগে যদি ঘুমানোর স্বপ্ন দেখেন তাহলে আপনার কপালে এডসেন্স জুটবে না ।

একটি গুগল অ্যাডসেন্স অ্যাকাউন্ট পাওয়াটা যতটা সহজ না পাওয়াটাও ততো সহজ । অর্থাৎ আপনি যদি তাদের রুলস এবং শর্তগুলো সঠিকভাবে অনুসরণ করেন তাহলে গুগল এডসেন্স আপনার জন্য রেডি । আর আপনি যদি তাদের শর্তগুলো সামান্য হেরফের করেন তাহলে আজীবন আপনার কপালে অ্যাডসেন্স অ্যাকাউন্ট জুটবে না।

হ্যালো বন্ধুরা আজকে আমি এই পোস্টে গুগল এডসেন্স এ টু জেড আলোচনা করব । আশাকরি খুব মনোযোগের সহিত কথাগুলো শুনবেন এবং বোঝার চেষ্টা করবেন ।  যদি পুরোপুরি বুঝে যান তবেই গুগল এডসেন্স একাউন্ট পাবার পথে পা বাড়াতে পারেন ।  অন্যথায় ভুলেও ওই পথে পা বাড়াবেন না নইলে গুগলের গোলক ধাঁধায় পড়ে যাবেন , আর জীবনেও পাবেন না।

 গুগল এডসেন্স (Google Adsense) কি?

গুগল এডসেন্স হচ্ছে গুগলের এমন একটি সার্ভিস যার মাধ্যমে বিজ্ঞাপন প্রচার করা হয়।   এই বিজ্ঞাপন গুলো গুগলের নিজস্ব কোন বিজ্ঞাপন নয়।বিভিন্ন কোম্পানির বিজ্ঞাপন প্রচারের জন্য গুগল এডসেন্স কে দায়িত্ব দেয়।   গুগল এডসেন্স অনলাইন ক্রিয়েটর, যেমন আর্টিকেল রাইটার, ভিডিও ক্রিয়েটর, যেকোনো ধরনের ক্রিয়েটর হতে পারে , তাদের কন্টেন্টের সঙ্গে এই বিজ্ঞাপনগুলো প্রদর্শন করে । তবে হ্যাঁ অনলাইনে অসংখ্য কন্টেন ক্রিয়েটর রয়েছে , তাই বলে সবাইকে গুগল এডসেন্স বিজ্ঞাপনগুলো প্রদর্শনের অধিকার দেয় না। গুগল অ্যাডসেন্স এবং যেসব কোম্পানি স্পন্সর করে, তাদের কিছু বেঁধে দেওয়া শর্ত , যেসব ক্রিয়েটর পালন করেন তারাই মাত্র এই বিজ্ঞাপনগুলো প্রদর্শনের সুযোগ পান । আর মূলত বিজ্ঞাপন প্রদর্শনের জন্যই টাকা পেয়ে থাকেন।

 

এডসেন্স একাউন্ট থেকে প্রতি মাসে কি পরিমান আয় করা সম্ভব??

গুগল এডসেন্স আর্নিং সম্পূর্ণ নির্ভর করে আপনার কনটেন্ট কোয়ালিটি এবং ভিজিটর এর ওপর। কনটেন্ট কোয়ালিটি বলতে বোঝায় কনটেন্ট এর বিষয়বস্তু, যদি আর্টিকেল হয় তবে তা কত শব্দের, আর যদি ভিডিও হয় তবে তা কত মিনিট দৈর্ঘ্যের তার উপর নির্ভর করে ।

আর ভিজিটর বলতে, ভিজিটর কোন দেশ থেকে আপনার কনটেন্ট দেখছে এবং আপনার ভিজিটর কতক্ষণ সময় ধরে দেখছে তার ওপর নির্ভর করে।

আর এই ক্ষেত্রে বলে রাখা ভালো আপনি যদি কোন মাধ্যম থেকে ভিজিটর কিনে আনেন অথবা আপনি নিজে বিজ্ঞাপন দিয়ে ভিজিটর নিয়ে আসেন আপনার আর্টিকেল বা কনটেন্ট পড়ার জন্য বা দেখার জন্য সে ক্ষেত্রে আর্নিং একেবারেই শূন্য হতে পারে। গুগল এডসেন্স মনিটাইজেশন নিয়ম অনুযায়ী যদি আপনার ভিজিটর অর্গানিক তবে আপনি সর্বাধিক আয় করতে পারেন। অর্গানিক ট্রাফিক বলতে বোঝায় আপনার কনটেন্ট দেখার জন্য ভিজিটর হয় গুগল থেকে সার্চ করে এসেছে অথবা কোন একটি ভিডিও দেখার পাশাপাশি সাজেস্ট করা ভিডিওগুলো থেকে খুঁজে পেয়েছে এই জাতীয় ট্রাফিক কে অর্গানিক ট্রাফিক বলা হয়।

এখন আসি এডসেন্স কত প্রকার কি কি??

গুগল এডসেন্স একাউন্ট মূলত তিন প্রকারের হয়ে থাকে ।
হোস্টেড এডসেন্স একাউন্ট
আপনি যখন গুগোল ব্লগার এর ব্লগ অথবা ইউটিউব চ্যানেল গুগোল মনিটাইজেশন এর জন্য ব্যবহার করবেন এবং যে একাউন্ট পাবেন সেটি মূলত গুগল হোস্টেড এডসেন্স একাউন্ট।

নন হোস্টেড গুগল এডসেন্স একাউন্ট
আপনি যখন নিজের টাকায় ডোমেইন হোস্টিং কিনে সেই ওয়েবসাইটে আর্টিকেল লিখবেন বা কনটেন্ট তৈরি করবেন সেই ওয়েবসাইট যখন গুগল এডসেন্স পাবেন তখন সেই একাউন্ট গুগল এডসেন্স একাউন্ট বলে।

এডমোব এডসেন্স একাউন্ট
এডমোব গুগল এডসেন্স একাউন্ট বলতে আপনি যখন কোন এন্ড্রয়েড এপ্লিকেশন প্লে স্টোরে আপলোড করবেন এবং সেই অ্যাপস থেকে গুগল এডসেন্স একাউন্ট পাবেন সেটিতে তখন এডমোব এডসেন্স একাউন্ট বলে ।

 

তো চলুন জেনে নেই গুগোল অ্যাডসেন্স এর শর্ত সমূহ কি কি?

গুগল অ্যাডসেন্স অ্যাকাউন্ট পেতে গেলে অথবা গুগল এডসেন্স মনেটিজেশন পেতে গেলে, তাদের যতগুলো নিয়ম-নীতি এবং শর্ত রয়েছে, সেগুলো যদি আমি বিস্তারিত বলতে চাই সে ক্ষেত্রে এক মাস সময় লেগে যাবে তাও শেষ করতে পারবো না । তবে খুবই সংক্ষিপ্ত ভাবে উপস্থাপন করার চেষ্টা করছি বিষয়গুলো খেয়াল করবেন।

YouTube Content Community Guidelines.

  • Nudity or sexual content
  • Harmful or dangerous content
  • Hateful content
  • Violent or graphic content
  • Harassment and cyberbullying
  • Spam, misleading metadata, and scams
  • Threats
  • Copyright
  • Privacy
  • Impersonation
  • Child Safety
  • Additional policies

উপরোক্ত কমিউনিটি গাইডলাইন অনুযায়ী এই বুঝা যায় যে, এডাল্ট কনটেন্ট, পর্নোগ্রাফি, সেক্সুয়াল, ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ড যেমন বোমা তৈরি অস্ত্র তৈরি, কারো প্রতি ঘৃণা ও বিদ্বেষ মূলক কথা, কাউকে ভয় দেখানো, হুমকি দেয়া, কাউকে হেয় প্রতিপন্ন করা, কাউকে হয়রানি করা, কারো বিরুদ্ধে কুরুচিপূর্ণ কথা বার্তা বলা, রাজনৈতিক সহিংসতার তৈরি করা ও ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দেয়া, অন্য কারো কন্টাক্ট অন্য কারো কপিরাইট কন্টাক্ট চুরি করে ব্যবহার করা, কারো ব্যক্তিগত যেকোন তথ্য ছবি ভিডিও তার অনুমতি বিহীন ব্যবহার করা, শিশুদের ক্ষতি করে এমন অথবা সামাজিক বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে এমন কনটেন্ট তৈরি করা যাবে না ।

আরো অল্প কথায় যদি বলি আপনি এমন কনটেন্ট তৈরি করবেন যাতে সমাজ, দেশ, তথা বিশ্বের মানুষের কল্যাণে আসে সেই সমস্ত সেই সমস্ত কনটেন্ট গুলো Google Adsense পাবার যোগ্যতা রাখে।

এখন কথা হল উপরোক্ত শর্তগুলো পূরণ করলেই কি গুগল এডসেন্স পাওয়া যাবে?
মোটেই না । উপরোক্ত শর্তসাপেক্ষে যদি আপনি কন্টেন্ট তৈরি করেন তারপরও আপনি মনিটাইজেশন পাবেন না, যদি আপনার কনটেন্ট গুলো তে কোন প্রকার ভেলু না থাকে , যেমন আপনি কোন গ্রাফিক্স এর সহায়তায় একটি দীর্ঘ ভিডিও তৈরি করলেন। কিন্তু সেই ভিডিওতে কোন কিছুই নেই শুধুমাত্র একটা ছবি অথবা কিছু গ্রাফিক্স দিয়ে সমস্ত ভিডিওটা তৈরি করা । সেই ভিডিও থেকে আসলে বোঝার ও দেখার মত কিছুই নেই । এই জাতীয় কনটেন্ট হলে অবশ্যই আপনি মনিটাইজেশন পাবেন না । অপরদিকে আপনি যদি আর্টিকেল বা ব্লগ লেখেন সে ক্ষেত্রে আপনি যদি এমন কনটেন্ট লেখেন যে, সেখানে বোঝার মত কিছু নেই অথবা অন্য কোন একটি কনটেন্ট কপি করেছেন এভাবে, শুধু শব্দ সাজিয়ে গেছেন কোন অর্থ প্রকাশ করেনি তাহলে আপনি পাবেন না।

তার মানে আপনাকে এমন কনটেন্ট তৈরি করতে হবে যাতে অর্থপূর্ণ কিছু থাকে। যা থেকে মানুষ উপকৃত হবে এবং যা মানুষের পছন্দনীয় হবে এবং মানুষ এটি পড়তে অথবা দেখতে আগ্রহ প্রকাশ করে।

সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে আপনি কখন মনে করবেন যে আপনার এখন মনিটাইজেশন পাওয়ার যোগ্যতা আছে?
এত কিছুর পরেও আপনি ভাল কনটেন্ট তৈরি করলেন তারপরও যে মনিটাইজেশন পাবেন সেটাও নিশ্চিত নয়। আরো কিছু নিয়ম আপনাকে মানতে হবে, যেমন আপনার যদি একটি ওয়েবসাইট অথবা ইউটিউব চ্যানেল অথবা অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপ্লিকেশন আছে সে ক্ষেত্রে আপনার কনটেন্ট প্রতিদিন নির্দিষ্ট পরিমান ভিজিটর প্রয়োজন হবে। আপনি কন্টেন্ট তৈরি করেছেন অথচ কোন ভিজিটর নেই । আপনার কনটেন্টগুলো মানুষ দেখছে না পড়ছে না তাহলে কিন্তু আপনি মনিটাইজেশন পাবেন না।

এই বিষয়ে গুগল এডসেন্স নিয়ম অনুযায়ী আপনার ইউটিউব চ্যানেলে এক বছরে 1000 সাবস্ক্রাইবার কমপক্ষে এবং আপনার ভিডিও ওয়াচ টাইম হতে হবে 4000 ঘন্টা তবেই আপনি ইউটিউব চ্যানেলের জন্য গুগল এডসেন্স মনিটাইজেশন আবেদন করতে পারবেন।

আর যদি আপনার ওয়েবসাইট অথবা ব্লগ সাইট থাকে, সে ক্ষেত্রে কমপক্ষে 10 টি অর্থপূর্ণ এবং কোয়ালিটি পূর্ণ আর্টিকেল থাকতে হবে এবং আপনার ওয়েবসাইটে প্রতি মাস কমপক্ষে 10 হাজার ভিজিটর থাকতে হবে।

এই সমস্ত কিছু যদি পরিপূর্ণ থাকে তবে আপনি এডসেন্স এর জন্য আবেদন করতে পারেন আপনার আবেদনটি সর্বোচ্চ 7 দিন সময় নিবে । এরমধ্যে যদি আপনার আবেদনটি গ্রহণযোগ্য হয় তাহলে আপনাকে একটি মেইল এর মাধ্যমে কংগ্রাচুলেশন জানিয়ে দেয়া হবে । আর যদি আবেদনটি তাদের কাছে গ্রহণযোগ্য না হয় তার জন্য আপনাকে জানিয়ে দেয়া হবে।

 

Hello, I'm Kanay Lal. I'm a professional Freelancer as a Graphics Designer, Web Designer and Online Marketer since 2011.

Share

Leave a Comment

%d bloggers like this: